আজ (বৃহস্পতিবার) তুরস্কের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামাস-ইসরাইল যুদ্ধ নিয়ে পোপ ফ্রান্সিসের সাথে ফোনালাপে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছেন: অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের হামলা গণহত্যার পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা মানবতার জন্যে লজ্জাজনক। যুদ্ধ থামানোর বদলে পশ্চিমা দেশগুলো ইসরাইলকে শর্তহীনভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। গাজায় নিরীহ বেসামরিক লোকজনকে নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা করার প্রচেষ্টায় সকলের সমর্থন জানানো উচিত। স্বাধীন ফিলিস্তিনী রাষ্ট্র কায়েমের মাধ্যমেই এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
![]() |
| চিত্র: সংগৃহীত |
এরদোগানের এই বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে - সন্ত্রাসী সংগঠনের পক্ষ নিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। পুরো বিশ্ব যে ভয়াবহতা দেখেছে, তা পরিবর্তন করবে না তার এসব উস্কানিমূলক কথাবার্তা।
এরদোয়ানের মন্তব্যে তাৎক্ষণিক নিন্দা জানিয়েছেন ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি বলেছেন: আমি আমার সহকর্মী (পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও) তাজানিকে আনুষ্ঠানিক একটি প্রতিবাদ পাঠাতে এবং তুর্কি রাষ্ট্রদূতকে তলব করার প্রস্তাব দেবো।
ওদিকে, আজ (বৃহস্পতিবার) ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ফেডারেশন কাউন্সিলের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা হামাস-ইসরাইল যুদ্ধের ব্যাপারে বলেছেন: এ মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে যা হচ্ছে, তা মারাত্মক! কে দায়ী বা কারা ভুল, সেটা আলোচনার বিষয় নয়। সমস্যাটা হচ্ছে গাজায় যা ঘটছে, তা যুদ্ধ নয়, বরং গণহত্যা। প্রায় দু’ হাজার শিশুকে হত্যা করা হয়েছে - যাদের এই যুদ্ধের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। যারা কোনো অপরাধ না করেও ভুক্তভোগী। ওরা এই যুদ্ধের শিকার হয়েছে। যুদ্ধের ফলে নিষ্পাপ শিশুরা মারা যাবে - এটা জেনেও একজন মানুষ কীভাবে যুদ্ধ করতে পারেন, তা আমি সত্যিই জানি না। মিসরের সীমান্ত থেকে কয়েক কিঃমিঃ দূরে গাজা উপত্যকায় আটকা পড়া ব্রাজিলীয়দের প্রথম দিকে মুক্ত করে দেওয়া যেতে পারে কি না, তা দেখতে কাতারের আমিরের সাথে আমার টেলিফোনে আলোচনা হবে। গাজায় আটকা ব্রাজিলীয়রা দেশে ফিরতে চান।
এদিকে, গতকাল (বুধবার) লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল-ভিত্তিক সংসদ এক বিবৃতিতে বলেছে: আমরা জায়নবাদী সত্তার অপরাধের সমর্থক দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদেরকে জলদি ভূ-খণ্ড (লিবিয়া) ছাড়ার দাবি জানাচ্ছি। গাজায় জায়নবাদী দুশমনদের নির্বিচার গণহত্যা বন্ধ না হলে, আমরা (ইসরাইলের) সমর্থক দেশগুলোর কাছে তেল ও গ্যাস রপ্তানি স্থগিত করতে সরকারের কাছে দাবি জানাব। আমেরিকা, বৃটেন, ফ্রান্স ও ইতালি গাজা উপত্যকায় অপরাধ চালাতে ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। আবার ওরা মানবাধিকার ও জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের বুলিও আওড়ায়!
সূত্র: আল-জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি, আল-মায়াদিন, দ্যা জেরুজালেম পোস্ট, হেরিটেজ, টাইমস অব ইসরাইল, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, ভোয়া, পার্স টুডে ও আনন্দবাজার পত্রিকা।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন